কারো কাছে তিনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর, আবার কেউ কেউ ‘পাঁচ টাকার ডাক্তার বাবু’ নামেও ডাকেন। বলছিলাম ডা. গৌরাঙ্গ গোস্বামীর কথা। তার বসবাস কলকাতার কালনায়।

কালনা স্টেশনে নেমে কেউ ‌যদি বলেন- আমি ডাক্তার বাবুর অতিথি, তার বাড়িতে যাব। শত কাজ থাকুক যে কেউ আপনাকে সাহায্য করবে। এমনকি ভাড়াও নিতে চান না রিকশা চালকরা।

পাঁচ টাকা ভিজিটে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ রোগী দেখেন তিনি। পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মী তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা কোনো শ্রেণিগত বিভেদের কারণে কোনো দিন কোনো রোগীকে ফেরাননি গৌরাঙ্গ। এ যেন এক বিরল চরিত্র!

গৌরাঙ্গ গোস্বামী কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস ১৯৭৮ সালে। এরপর ‘এমএস’–এর পঠনপাঠনে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। কিন্তু উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পেয়ে যান। তারপরও কালনাতেই ফিরে আসেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু। নিজের বাড়িতেই বানিয়েছেন চেম্বার। ৫ পারিশ্রমিকে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি।

গৌরাঙ্গের রোগী দেখা শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। দুপুর ঘণ্টা দেড়েক বিশ্রাম নিয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তার সময় কাটে রোগী–স্টেথোস্কোপ–প্রেসক্রিপশন নিয়ে। অনেক সময় আবারো এক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে রাত ১টা পর্যন্ত তার কাছে ভিড় জমান রোগীরা।
অনেক সময় খানিকটাও বিশ্রাম পান না গৌরাঙ্গ। তিনি বলেন, ‌‘বিশ্রামের সময়ে কোনো ইমার্জেন্সি কল আসলো তখন তো আর চুপ বসে থাকা যায় না। ছুটে যাই রোগীদের কাছে।’ সে কারণে বলা যায়, তিনি দিনের ১৬ ঘণ্টাই রোগী দেখেন।

বিশ্রামের সময় কাটছাঁট করেই নিজের মোটরবাইকে চড়ে রোগী দেখতে ছোটেন গৌরাঙ্গ। তিনি বলছিলেন, রাত একটা পর্যন্ত রোগী দেখি মানে এমন নয় যে তারপরে রোগী এলে দেখব না। আমার বাড়ির দরজা রোগীদের জন্য সবসময়ই খোলা।

দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০জন রোগীর চিকিৎসা করতে হয় তাকে। কিন্তু যে টাকা পারিশ্রামিক পান তাতে সংসার চলে? উত্তরে গৌরাঙ্গ বলেন, আমি যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তাতে এর চেয়ে বেশি টাকা লাগে না। তাছাড়া একজন কমিউনিস্টের জীবন এ রকমই হওয়া উচিত। প্রয়োজনের বেশি উপার্জনের দরকার নেই আমার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here