পদ শূণ্য: নিয়োগ নেই সরকারি কলেজে

চরম শিক্ষক সংকটে ভূগছে দেশের সরকারি কলেজগুলো। অনেক কলেজে পাঠদান চলছে বাইরের বা বদলি শিক্ষক দিয়ে। সদ্য সরকারি হওয়া কলেজগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, নির্ভরতা বাড়ছে গাইড বইয়ের উপর।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসের আগে সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, আলিয়া মাদরাসাসহ ৩২৯টি সরকারি কলেজ ছিলো। এসব কলেজে মোট ১৬ হাজার ৫৫৪টি শিক্ষকের সৃষ্ট পদ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৫০৭টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২২১টি, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২৮৪টি এবং প্রভাষক পদে আট হাজার ২৬টি পদ রয়েছে। এসব পুরাতন কলেজে প্রায় ২,৫৯৬ টি পদ শূণ্য রয়েছে যা শতকরা হিসেবে ১৭%।

আবার ২০১৬ সালের পর জাতীয়করন হয়েছে ৩০৩ টি কলেজ। এসব কলেজে পদ রয়েছে ৮০৫৮ টি। এর মধ্যে যেসব কলেজে ৯০র দশকে বেশী নিয়োগ হয়েছে, সেসব কলেজের অবস্থা বেশী করুন। গতবছর ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কলেজের প্রায় ২৯৬৯ জন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। এবছর আরো ৪৩৫ জনের অবসর নেয়ার কথা রয়েছে।

পিএসসির আয়োজিত সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে সংখ্যক শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ আসে তাদের দিয়ে এ সংকট নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কলেজে বিষয়ভিত্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী কলেজের শিক্ষক ধার করে এনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার এমনও আছে অন্য শিক্ষকরা বিষয় ভিক্তিক ক্লাস নিচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস আয়োজন ব্যাতীত উপায় নেই পিএসসির।

গত বছর ৪১ তম বিসিএস ঘিরে বিশেষ বিসিএস হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে জানা গেছে শিক্ষক সংকট দূর করতে পিএসসি বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরেক সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা থাকলেও খুব দ্রুত এ ধরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ পিএসসি তিনটি বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছে, ৩৮ তম বিসিএস এ নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও গেজেট প্রকাশ। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গেজেট প্রকাশ হতে আরো কয়েকমাস লেগে যেতে পারে। ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষা চলমান আর ৪১ তম বিসিএস এর সার্কুলার মোতাবেক মার্চে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

পিএসসির এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে স্পেশাল বিসিএস আয়োজনের, তবে সেটি কত তম বিসিএস হবে তা বলা এই মূহুর্তে সম্ভব হচ্ছে না।

তবে জানা গেছে, বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার ক্ষেত্রে পিএসসির চলমান আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এ আইন পরিবর্তনের জন্য খসড়া আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান খসড়া আইন চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে পিএসসি।

এদিকে সংকট নিরসনে অনেকে নন ক্যাডার থেকে শূণ্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন। অনেকে এব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও করছেন।

মোঃ রবিউল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন, ৩৮তম বি সি এস এ লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নন ক্যাডারের নিয়োগের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। তার আবেদন শিক্ষক সংকট নিরসনে করোনা দুর্যোগকালে পরবর্তী বি সি এস এর প্রক্রিয়া বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার,এছাড়া পূর্ববর্তী বি সি এস পরিক্ষা গুলোতে শিক্ষা ক্যাডারে বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে সুপারিশকৃত পদ সংখ্যা বাড়লেও ৩৮তম বি সি এস এ শিক্ষা ক্যাডারে পদ বাড়ে নি। এমতাবস্থায় ৩৮ তম নন ক্যডার থেকে প্রভাষক পদে সুপারিশ করলে শিক্ষক সংকট দূর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here