নোবিপ্রবিতে শূন্য আসনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে অসংগতি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শূন্য আসনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাপক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারী) বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রফেসর মো. মমিনুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য আসনে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য ২৩ ও ২৪ জানুয়ারী তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ না থাকায় এবং মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ না করার ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাই কেবল ভর্তির যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। পরবর্তীতে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী সিরিয়াল থেকে ডাকা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম মানেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই শূন্য আসনে ভর্তির জন্য পুনরায় প্রথম মেধা তালিকা থেকে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “এভাবে কোন কিছু নির্দিষ্ট না করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। ভর্তিচ্ছুদের আমরা কোন সদুত্তর দিতে পারছিনা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মমিনুল হকের সাথে কথা বললে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য ডেপুটি রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভর্তি সচিব এপ্লায়েড কেমস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে নিজের দায় এড়িয়ে যান।

ভর্তি সচিব ড. আশরাফুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রতিবছরই এ নিয়মেই ভর্তি করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রচলিত নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভর্তি কমিটির উপর।”

মাইগ্রেশনের রেজাল্ট প্রকাশের পূর্বে শুন্য আসনের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি কিভাবে দেয়া হল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান অতি শীঘ্রই মাইগ্রেশনের রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে এবং প্রকাশের পরেই ভর্তি করা হবে। কিন্তু বিগত শিক্ষাবর্ষ গুলোর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মই মানা হয়েছিল।

এদিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে অপেক্ষমান ভর্তিচ্ছুদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এমনকি তারা জালিয়াতির শঙ্কা প্রকাশ করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here