নীতিনির্ধারক ছাড়াই চলছে ইউজিসি

দিন দিন বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা। কিন্তু মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ‘সদস্য’ পদ শূন্য রেখেই চলছে এর কার্যক্রম। দেড় শতাধিক পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে পূর্ণকালীন মোট পাঁচ সদস্যের পদ থাকলেও দুজন ছাড়াই চলছে ছয় মাস ধরে। ফলে প্রতি সদস্যকে একাধিক দফতর সামলানোর কারণে করোনাকালীন তাদের চাপ বেড়েছে। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চাপা পড়ে থাকছে। চলতি মাসে শূন্য দুই পদে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সারাদেশে ৪৯টি পাবলিক ও ১০৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে পূর্ণকালীন তিনজন সদস্য দিয়ে চলছে ইউজিসি। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম দ্বিতীয় মেয়াদে ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেনকে (দুইজনকে একসঙ্গে) গত বছরের ১২ জুন এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ আলমগীরকে একই বছরের ১৬ জুন চার বছর মেয়াদে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বাকি দুই সদস্যের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ায় তারা অবসরে গেলেও এখনও কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী কাজ ইউজিসির সদস্যরা করেন। তারা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ পাঠান। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারণে প্রশাসনিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বা অনুষদের অভিজ্ঞ ডিনদের এ পদে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়।

জানা গেছে, এ তিন সদস্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হওয়ায় মানবিক ও বাণিজ্য বিষয়ের কোর্স পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া তিন সদস্যকে ১০টি দফতর সামলাতে হচ্ছে। প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগমকে চারটি, ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে চারটি এবং অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনকে দুটি দফতরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ইউজিসির সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘যেহেতু দুটি পদ খালি তাই বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। করোনার দুর্যোগের কারণে কাজের ধরনও পাল্টাছে। তবে মনে হচ্ছে চলতি মাসের মধ্যেই শূন্য দুই পদ পূরণ হবে।

যদিও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর দায়িত্বে ইউজিসি থাকলেও বর্তমানে এ সংস্থাটি শুধু অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন সদস্যরা। ফলে করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দেয়ার চেয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির তদন্তে ব্যস্ত থাকছেন তারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ইউজিসির মূল উদ্দেশ্য।

সদস্য ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ করে করোনার সময় অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক কাজ করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা একরকম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা আরেক রকম। সব বিষয় সমাধান আমাদের দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছি। শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি তদন্তের বিষয়গুলোও দেখতে হচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি নিয়ে দুদক কিংবা ক্রাইম ডিভিশন সহায়তা করতে পারে। কিন্তু তা হয় না। ফলে সেই তদন্তের পেছনেই পড়ে থাকতে হয় বেশিরভাগ সময়। এদিকে লোকবল কম কাজের চাপও বেশি।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, সদস্য না থাকায় ইউজিসির অনেক জরুরি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। একজনকে একাধিক বিভাগ দেখতে হচ্ছে বলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত বা সমাধান করা জটিল হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ইউজিসির কাজের পরিধি যে পরিমাণ বেড়েছে সে পরিমাণ জনবল না থাকায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ সদস্য যথেষ্ট নয়। এর পরিধি আরও বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শূন্য থাকা দুই পদে নিয়োগ দিতে অনেক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সে প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শূন্য দুই পদে নিয়োগ দেয়া হবে। সূত্র: জাগো নিউজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here