ধর্ষণ মামলায় এক যুগে মাত্র পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর

দেশে ধর্ষণসংক্রান্ত মামলায় গত ১১ বছরে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ধর্ষণের মামলায় এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আরও ১৪৪ জন। পাঁচজনের মধ্যে একজনের ফাঁসি হয় ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে। দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ফাঁসি হয় বাকি চারজনের।

ধর্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার রায় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রমাণের দায়ভার অনেক বড় হয়। সে ক্ষেত্রে চুলচেরা সুনিশ্চিত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির খালাস পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

ঢাকার নয়টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলিরা (পিপি) বলেছেন, এ বছর ধর্ষণের মামলায় দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল দুটিতে বিচারাধীন ধর্ষণের মামলার মোট সংখ্যা সাত শতাধিক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বন্দীর সংখ্যা ৩৬৫। তাঁদের মধ্যে শুধু ধর্ষণসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বন্দী রয়েছেন ১৪৪ জন পুরুষ।

সারা দেশে সরকারের ৭৮টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেলে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৫ জন যৌন সহিংসতার ভুক্তভোগী নারী ও শিশু সেবা নিয়েছে। এই সময়ে মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৩টি। এ সময় নিষ্পন্ন ৩০২টি মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র ১৮টিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশের তদন্ত স্বাধীন, পক্ষপাতশূন্য ও ভালো না হলে বিচারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ পিপি নিয়োগ করা দরকার। না হলে সাজার হার বাড়বে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here