‘দিল্লিতে মসজিদে আগুন দেয় পুলিশ’

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) জেরে ফের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। গত কয়েকদিন ধরে দেশটির রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন স্থানে এই আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।

দিল্লিতে অন্তত তিনটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আর এই অগ্নিসংযোগের ক্ষেত্রে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সহায়তা করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সহিংসতায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সহযোগিতা করেছে রাজ্যটির পুলিশ। এমনকি মসজিদে অগ্নিসংযোগের সময়েও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আটকানোর জন্য পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

সংবাদমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সহিংসতা বন্ধের চেষ্টা না করে উন্মত্ত জনতার সঙ্গে যোগ দিয়ে জয় শ্রী রাম বলে স্লোগান দিচ্ছিল পুলিশ। একই সঙ্গে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে তারা।

গত কয়েকদিন ধরে এই দাঙ্গা পরিস্থিতি চললেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অবশেষে বুধবার তিনি এ বিষয়ে বিবৃতিতে দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। লোকজনকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিক্ষোভ-সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক মানুষ।

মোদির রাজনৈতিক জীবনে এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০০২ সালে মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সে সময় তিনদিন ধরে দাঙ্গা পরিস্থিতিতে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। নিহতদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। কিন্তু আদালত থেকে নিয়োগকৃত একটি প্যানেল সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থেকে মোদিকে নিস্তার দিয়েছিল।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করে মোদি সরকার। তারপর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর থেকেই মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সমালোচকদের দাবি, এই আইন ভারতের সংবিধানবিরোধী। এই আইনের কারণে মুসলিমরা আতঙ্কে আছেন যে, মোদির ভারতে তাদের হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হবে।

বুধবার দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র এম. এস রান্ধওয়া বলেন, দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

বুধবার বিকেলে দাঙ্গাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি পায়ে হেঁটে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন। সে সময় বোরকা পরা এক নারী শিক্ষার্থী অজিত দোভালকে বলেন, আমরা এখানে নিরাপদ নই। সে সময় অজিত দোভাল বলেন, আপনাদের আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here