ত্রিমুখী সংকটে জাবি শিক্ষার্থীরা

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় (গেরুয়া) শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আহত হন পঞ্চাশেরও অধিক শিক্ষার্থী। প্রায় চার ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষ চলে গ্রামবাসীদের সাথে গ্রামবাসীদের। মসজিদের মাইকে “ডাকাত” ঘোষনা দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালায় এলাকাবাসীর একটি অংশ।

হামলা পরবর্তী সময়ে আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা সংকটে পরে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর হামলার দিনই জানিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসন নিবে না। এমনকি পুলিশি সহায়তাও পায় নি শিক্ষার্থীরা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে?

শিক্ষার্থীরা দাবি জানায় হলগুলো খুলে দিতে কারন হলেই তারা সবথেকে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবে। প্রশাসন দাবি না মানায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই একযোগে ১৬টি হলের তালা ভেঙে হলে অবস্থান নেয় এবং চার দফা দাবি পেশ করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গেরুয়ায় হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখী করা ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় প্রশাসনকে বহন করা। প্রশাসন দুইটি দাবি মেনে নিলেও মানে নি হল খুলে দেওয়ার দাবি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ইবি ,রাবি ,ঢাবিসহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় হল খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষনা করেন ১৭ মে হল খুলবে ও ২৪ মে ক্লাস শুরু হবে। তবে এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে হলে অবস্থান করার সিদ্ধান্তে অনড় আছে জাবি শিক্ষার্থীরা।

একদিকে শিক্ষা জীবন অন্যদিকে নিরাপত্তা সংকট ও হল ত্যাগের নির্দেশে ত্রিমুখী সংকটে তারা। ১৯ তারিখের হামলার পর বেরিয়ে আসতে থাকে পেছনের নানা তথ্য। গ্রামবাসী হামলার কারন হিসেবে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের একাংশের চাঁদাবাজিকে দায়ী করলেও হামলার পেছনে ইন্ধন দাতা হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাম। অর্থাৎ বেশ পরিকল্পিতভাবেই আক্রমন হয়েছিল এবং আবারও হামলার সম্ভাবনা প্রবল। গেরুয়া এলাকায় এখনও দুইশরও অধিক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের জীবন হুমকির মুখেই রয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী করোনাকালীন সময়ে গেরুয়া এলাকায় বাস করছেন যারা বিভিন্ন কারনে এখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা বাড়ি যেতে না পারায় হল ছাড়া তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।

দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকা এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা। পরিস্থিতি এমন যে একই বর্ষে কয়েকটি ব্যাচ একসাথে অবস্থান করছে বা দোদুল্যমান অবস্থায় আছে। সেশনজট ছাড়াও চাকরির বয়স সীমার কারনেও বিপাকে শিক্ষার্থীরা।

করোনা পরিস্থিতি যেহেতু প্রায় স্বাভাবিক এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমও পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও তিন মাস বন্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। জাবি শিক্ষার্থীদের দাবি সশরীরে ক্লাস শুরু না হলেও অন্তত হলগুলো যেন খুলে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কারনে। তবে প্রশাসনও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়, অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও। এ অবস্থায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

গ্রামে নেটওয়ার্ক না পাওয়া, টিউশনি ইত্যাদি কারনে শিক্ষার্থীরা বাড়িতেও যেতে পারছে না। একদিকে নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়া অন্যদিকে হল হল না খুলতে মন্ত্রনালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনড় অবস্থানে ত্রিমুখী সংকটে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here