তারুণ্যের অনুপ্রেরণা শেখ হাসিনা

জাতির পিতার কন্যা কিনা নিজ দেশেই অবাঞ্ছিত! একবার ভেবে দেখুন, কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বাবা-মা, তিন ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা, ফুফাতো ভাইসহ লাইন ধরে ব্রাশফায়ার করেছে ঘাতকরা। আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের বাহিরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা।

জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত ছিলেন মহান স্বাধীনতার স্থপতির দুই কন্যা। তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল জিয়া বারংবার বাধা সৃষ্টি করছে যাতে করে দেশে আসতে না পারে বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ্বয়। কিন্তু শেখ হাসিনা ছিলো আপোষহীন। যদি মরতে হয় তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশেই মরবে, তারপরও তিনি দেশে আসবেন, তারিখ নির্ধারিত হলো ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সারাদেশ থেকে আসা লাখো মানুষ সেদিন তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানায়। ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাঁকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামে। ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখো জনতার সংবর্ধনার জবাবে সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফেরার আগেই ওই বছরের (১৯৮১) ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেই বঙ্গবন্ধুকন্যার দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মহাকাশে! সমুদ্র বিজয়, সীমান্ত বিজয়ের পর মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ- বাংলাদেশ যেন নতুন বিস্ময় বিশ্বে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান। জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁরই নেতৃত্বে ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার।

দীর্ঘ এই চলার পথে সবসময় বাধা সৃষ্টি করেছে দেশ বিরোধী হায়েনার দল। শেখ হাসিনা ছিলেন সাহসের মূর্ত প্রতীক। এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের মৌলিক অধিকার। যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। জাতির পিতাকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের রায় ঘোষণা হয়েছে। অনেকের ফাঁসি হয়েছে যারা দেশের বাহিরে আছে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির আদেশ কার্যকর এখন সময়ের দাবি।

আমার মতো তরুণদের কাছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হচ্ছে অনুপ্রেরণার নাম। যেই নামের ওপরে আমাদের জীবন উৎসর্গ। দেশরত্ন শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন পর্যালোচনা করলে জানতে পারবেন, প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হয়। সবকিছু হারিয়ে কিভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। বাবা মা ভাই আত্মীয় স্বজন হারানোর বেদনা বুকে চাপিয়ে রেখে কিভাবে একটা জাতির উন্নয়ন সাধন করতে হয়। হয়তো শেখ হাসিনা বলেই এতকিছু সম্ভব, নইলে এই দেশ আবার পাকিস্তান হয়ে যেতো।

দেশ এখন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্ব নেতারা এখন বাংলাদেশকে সমীহ করে কথা বলে। যেসকল বিশ্ব নেতারা আমাদের মিসকিন বলতো তারা এখন দেশরত্ন শেখ হাসিনার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে আন্তর্জাতিক সেমিনারে। বিশ্বের বুকে এখন লাল সবুজের পতাকা উড়ে পতপত করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যতদিন আপনার হাতে থাকবে লাল সবুজের পবিত্র পতাকা, ততদিন বুক ভরে শ্বাস নিবে টেকনাফ থেকে রূপসা।

লেখক : মো. ফজলুল করিম মিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। স্টুডেন্ট জার্নাল-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here