ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের সম্ভাবনা নিয়ে তিতুমীর শিক্ষার্থী তুহিন

এ যুগে চাকরির জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাজীবনেই অর্জন করা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং তেমনই এক কাজ, যা ছাত্রজীবনেই শুরু করা যায়।

কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা একটি স্মার্টফোনও যদি কারও থাকে, তবে নিশ্চিত তিনি ডিজিটাল দুনিয়ায় অভ্যস্ত। চাইলেই করতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ, যা ভবিষ্যতে তাঁর পেশা গড়ে দিতে সহায়ক হতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ আইটির হেড অব ডিজিটাল মার্কেটিং ফৌজিয়া কাওয়াল বলেন, ‘ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পেশাগত সম্ভাবনা বিপুল। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল নেই। তাই এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা বানানো যায়। আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।’

ডিজিটাল মার্কেটিং কী?

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে বোঝাচ্ছে ইন্টারনেটের বিশাল জগৎ ব্যবহার করে পণ্য, সেবা বা কোনো ব্র্যান্ডের প্রচারণা চালানো। ডিজিটাল মার্কেটার প্রচারের কাজে যে মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ই-মেইল বিজ্ঞাপন, বিজনেস নেটওয়ার্কিং সাইট যেমন লিঙ্কড–ইন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, কমিউনিটি ব্লগ, ওয়েব পেজ, পেইড অ্যাড, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টিং, মোবাইল বার্তা ইত্যাদি।

কেন জনপ্রিয়?

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যেন ডিজিটাল মার্কেটিং চাহিদাও বেড়ে চলেছে। দিন দিন অনলাইন মার্কেটিং জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণগুলো হচ্ছে, প্রচলিত বিপণনপদ্ধতির তুলনায় এতে খরচ কম হয়, সম্ভাব্য ও আগ্রহী ক্রেতাকে সরাসরি খুঁজে পাওয়া যায়, ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করা সহজ, ব্র্যান্ড মূল্য ও রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বেশি, সহজেই গ্রাহকের চাহিদা অনুসরণ করা যায়, তাৎক্ষণিক ফল জানা যায়, সহজেই সুনির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আয় ও কাজের ক্ষেত্র বেশ বড়। চাইলে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পেশা গড়া সম্ভব। এমন তিনটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং?

(গুগল ব্যবহার করে) সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং হচ্ছে বিপণনপদ্ধতি ও কৌশলের সমন্বয়, যা ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অনলাইন বিজ্ঞাপনকে গুগলের শীর্ষে নিয়ে আসে। যে দুটি প্রক্রিয়ায় কাজটি করা হয়, তার একটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এবং অন্যটি পেইড সার্চ অ্যাড বা পিপিসি (পে-পার-ক্লিক)।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং?

সামাজিক ব্যবসা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকেন। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করেই পণ্য বা সেবার প্রচারণা চালানো হয়। ফ্যান-ফলোয়ার, গ্রুপ, কমিউনিটিকে লক্ষ্য করেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায়। গ্রাহককে নতুন সেবা বা সুবিধার কথা জানানোর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী পণ্যের বিশ্লেষণ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড, প্রচারণা কৌশল—সবই করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে। এতে ন্যূনতম খরচে সর্বোচ্চ টার্গেটেড মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব। তাই ডিজিটাল বিপণনকারীদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভেদে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব, লিঙ্কডইন ইত্যাদি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে একটি অনলাইন বিক্রয় কৌশল, যার মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মালিক তার পণ্যকে নিজের ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স সাইটে দেখায়। সেই পণ্য যদি অন্য কোনো সহযোগী তার নির্ধারিত চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রি করে বা প্রচার করে এবং সেই পণ্যটি যদি বিক্রি হয়, তবে যার মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি হলো, সে নির্ধারিত কমিশন পেয়ে থাকে। বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠানই রয়েছে, যারা অ্যাফিলিয়েট সুবিধা দিয়ে থাকে, যার মধ্যে ক্লিক ব্যাংক ও আমাজন অ্যাফিলিয়েট সবচেয়ে জনপ্রিয়।

কাদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং?

যাঁরা ব্যবসায় শিক্ষা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের জন্য আকর্ষণীয় পেশা হতে পারে ডিজিটাল মার্কেটিং। চাইলেই যে কেউ এ কাজে ঘোরাতে পারেন নিজের ভাগ্যের চাকা। হতে পারেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। শিক্ষাজীবনেই অর্জন করতে পারেন দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নিজেকে যুক্ত করতে পারে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশায়। করতে পারে আউটসোর্সিং। এ ছাড়া নিজ দক্ষতায় পেতে পারে দেশীয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনের চাকরি।

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে মাইনুল ইসলাম তুহিন বিশ্বাস করেন সফলতার কোন শর্টকাট পথ নেই। মানুষ নিজের সততা, একাগ্রতা, কাজ এবং পরিশ্রম দিয়ে সফল হয়ে উঠে। যেখানে মানুষের কাজের কোনো সত্যতা নেই সেখানে কাজের প্রকৃত সম্মান পাওয়া যায় না। এবং প্রকৃত সফলতা পাওয়া যায় না। তাই প্রতিটি মানুষের সততা ঠিক রেখে কাজ করা উচিত। পরিশ্রম মানুষকে সফলতার চূড়ায় নিয়ে যায়। সততাকে সঠিক রেখে ধৈর্যকে পাশে রেখে পরিশ্রম করে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া একান্ত কাম্য।

সবার উদ্দেশ্যে তুহিন বলেন, নিজের ইচ্ছার বাহিরে কোন কাজ করতে যেও না এতে তোমার সাফল্য না আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তুমি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী পরিশ্রমকে ছোট করে লক্ষ্যকে বড় করে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তোমার নিজেকে আবিষ্কার করো। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কর সবার মাঝে কঠোর পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর। তিনি বুঝিয়েছেন যে আমরা যে অবস্থায় থাকি না কেন সকলেরই একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে ততক্ষণ পর্যন্তই থামবো না যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি আমার সফলতার চূড়ায় না পৌঁছাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here