ঠাকুরগাঁওয়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা

নিহতের শশুর বাড়িতে মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

নিজের গর্ভবতী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মোশারফ হোসেন মুসা (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এসময় গর্ভে থাকা সন্তানেরও মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার ৩০ জুলাই দিবাগত রাত ৩টার সময় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের মেছনী পিয়াজুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের ১৮দিন আগে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধু রুনা আক্তার (২৫) উপজেলার ধনতলা গ্রামের হুসেন আলীর কন্যা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে গৃহবধুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি কাউকে না জানিয়ে দ্রুত মরদেহকে গোসল করে দাফনের ব্যবস্থা করা, এমনকি মোড়লদের নিয়ে বিষয়টি ৫ লাখ টাকার দফারফাও হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মেয়ের মৃত্যুতে মা শামসুন নাহার জানান, ছয়বছর আগে ছয়লক্ষ টাকা যৌতুক দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের মেছনী পিয়াজুপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মোশারফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেন তার মেয়ের। তিনি বলেন, “বিয়ের পর মোটরসাইকেল যৌতুক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। পারিবারিক ও স্থানীয় ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল।”

মেয়ের বাবা হুসেন আলী জানান, “সকালে স্থানীয় মোড়লরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিয়ষটি মীমাংসার চেষ্টা করে। আমি চাপে পড়ে লাশ দাফন করতে সম্মতি দিই। কিন্তু পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে বাড়ী-ঘর ছেরে জামাই ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।”

পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, “গৃহবধুর ছোট একটা ৩ বছরের মেয়ে রয়েছে। সেই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এক বিঘা জমি মেয়ের নামে লিখে দেওয়ার শর্তে একটা মীমাংসার প্রস্তাব ছিল দুই পরিবারের পক্ষ থেকে। এখন সেটা আর হচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ায় সবকিছু হবে। গৃহবধুর স্বামী যদি অপরাধ করে, তাহলে শাস্তি পাবে।”

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, “দাফনের জন্য গোসল করানো শেষ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গৃহবধুর পরিবারের লোকজন কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। গৃহবধুর লাশ নিয়ে আসার সময় গৃহবধুর শ্বশুর বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ আসার খবর শুনে তারা পালিয়ে যায়।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here