টাকা দিয়ে কেনা যাচ্ছে এসএসসির প্রবেশপত্র!

কক্সবাজারে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের টাকার বিনিময়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শহরের পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

একই সাথে পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে, অনিয়মের পরও সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষতির আশঙ্কায় মুখ খুলছেন না অভিভাবকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন টাকার বিনিময়ে। ফেল করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এজন্য গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এভাবে সম্প্রতি ২৮জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে শিক্ষার্থীরা মূল পরীক্ষার (এসএসসি) ফরম পূরণ কিংবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

ছেলেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবে না এই ভয়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার ছেলে এসএসসি’র নির্বাচনী পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করেছে। ওই দুই বিষয়ে উত্তীর্ণ দেখাতে প্রধান শিক্ষককে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি যাতে আমার ছেলে এসএসসিতে অংশ নিতে পারে।”

একই অভিযোগ আরেক অভিভাবকের। তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে স্যারের সাথে (প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম) আলাপ করেছি। তিনি জানিয়েছেন যে এই টাকা চট্টগ্রাম শিক্ষা অফিসের এক অফিসারকে দিতে হবে। তা নাহলে পরীক্ষা দিতে পারবে না আমার ছেলে।”

অন্যদিকে ফলাফল শিট দেয়ার কথা বলে শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অথচ ফলাফল সীট এখনো কোন শিক্ষার্থীকে দেখানো হয়নি বলে জানান কয়েকজন অভিভাবক। এর আগে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষার সময়ও তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি। খুবই সুষ্ঠুভাবে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কোন অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়নি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, “কোনো অভিভাবক কিংবা শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here