জাবিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ১০ একর বন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ভয়াবহ আগুনে ১০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পেছন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত বলে জানা যায়, যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত সবুজ অঞ্চলে।

দুপুর ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আগুনের ভয়াবহতা পর্যবেক্ষণ করে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিই। পরে দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের উৎস সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এটা দুষ্কৃতকারীদের কাজ অথবা শর্ট সার্কিটেও হতে পারে।’

সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের দুটি ইউনিট ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা বলতে পারছি না।

প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। আগুনে সংরক্ষিত বনের বিপন্ন প্রজাতির কীট-প্রত্যঙ্গ ও পশুপাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের উচিত আগুনের উৎসমূল খুঁজে বের করা। না হলে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে প্রায় সময় এমন আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা দেখেছি বিগত বছরগুলোতে শীত শেষে এ ধরনের আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ছোট কীট-পতঙ্গ মারা যায়, বৃক্ষের ক্ষতি হয়। শীতের শেষ সময়ে ঝরা পাতার নিচে টিকটিকি, ব্যাঙ, গিরগিটিসহ ছোট ছোট অনেক প্রাণী আশ্রয় নেয়। এ ধরনের আগুনের ঘটনায় সব প্রাণী মারা যায়। এই প্রাণী ছোট হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের অনেক অবদান রয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসের মতো এ কাজগুলো কারা করে আমরা আদৌ জানতে পারিনি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here