ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়োগ বোর্ড পুনরায় শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাস ভবনে ফার্মেসি বিভাগের বোর্ডের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ নিয়োগ বোর্ড শুরু হয়ে পুলিশ প্রহরায় ও জরুরী অবস্থার মধ্যদিয়ে বোর্ড সম্পন্ন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ প্রহরায় ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে বোর্ড শুরু হয়। পরীক্ষায় ৩১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৫ জন অংশ গ্রহণ করে এবং এর মধ্যে ১৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় বলে নিশ্চিত করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। বোর্ডকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, উপাচার্যের বাস ভবন, প্রশাসন ভবন ও ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়ন থাকতে দেখা গেছে।

এর আগে, নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ চাকরির দাবীতে কয়েক দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধসহ আন্দোলন করলে গত ৭ মে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়ে যায়।

এছাড়া গতকাল শনিবার রাত ৮ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস অবরোধ করে চাকরী না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার নিয়োগ বোর্ড হতে না দেয়ার ঘোষণা দেয় তারা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো মূল্যে বোর্ড সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা নেয়। শনিবার রাত প্রায় চার ঘন্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক অবরোধ থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন ব্যক্তিকে সেখানে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

এদিকে যেকোন প্রকার অনাকাঙ্খিত পরিবেশ এড়াতে সকাল ৮ থেকেই মাইকিং করে জরুরী অবস্থার কথা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পরিচয় পত্র বহনের নির্দেশ দেয়া হয়।

কিন্তু বেলা ১২ টা থেকে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের টেন্টে চাকরীপ্রত্যাশী সাবেক নেতৃবৃন্দদের ও বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এ নিয়োগ নিয়ে চাকরী প্রত্যাশীদের অনেকেই নানা হুমকি দিয়েছে। বোর্ড না হতে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে। আমরা সে চেষ্টা নস্যাৎ করেছি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here