চেকপোস্টে হেনস্তা, শখের বাইক বিক্রি করে দিলেন সরকারি কর্মকর্তা

সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও পুলিশের চেকপোস্টে হেনস্তার শিকার হয়ে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দিয়ে ক্ষোভে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। বুধবার দুপুরে শাহজাহান সিরাজ অপু নামে ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, চাকরির খাতিরে গত ১০ বছর রাস্তায় বাইক চালাই। আর যারা বাইক চালাই তারা সবাই জানে, অন্য কোনো যানবাহনের কাগজপত্র না থাকলেও বাইকারদের কাগজের ব্যাপারে এক শ্রেণির লোক খুব তৎপর। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো সমস্যা নেই তাতে। কোথাও পথরোধ করলে কাগজপত্র বের করে দেই। দেখার পরে তারা ছেড়েও দেন। দেবার মতো পরিচয় থাকলেও পরিচয়টা কাগজপত্র দেখার পরে দেই। এ ব্যাপারে কখনও কোনো ইগো কাজ করে না। কাগজপত্র দেখা তাদের দায়িত্ব আর দেখানোও একজন সুনাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব।

তিনি আরও লিখেছেন, তবে সমস্যাটা শুরু হয় যখন সিগন্যাল দেওয়া হয় তখন! সিগন্যাল দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই আলাপটা শুরু হয় তুমি/তুই দিয়ে। যেমন: কাগজপত্র দেখাও? কোথায় যাচ্ছ? বাইক কি তোমার? ইত্যাদি। ভাবটা এমন থাকে যে তারা কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করেছেন বা আমার কাছে কাগজপত্র নেই, সেটা ধরেই নিয়েছেন। তখন থেকেই মেজাজটা গরম হয়ে যায়। ইগো নামে জিনিসটা তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। প্রতিবাদও করা যায় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। কারণ অধিকাংশ এ ধরনের চেকপোস্টগুলো বসে হাইওয়ে বা রাস্তার ফাঁকা বা জনশূন্য স্থানে।

সর্বশেষ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে অতি শখের বাইকটা গতকাল বিক্রি করে দিলাম। এখন থেকে হাঁটব। হাঁটার জন্য দেশে কোনো কাগজপত্র তো লাগে না।

এ ব্যাপারে শাহজাহান সিরাজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আমি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমি কর্মরত নিজ উপজেলার একটি চেকপোস্টে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। তাই আমার শখের বাইকটা বিক্রি করে দিয়েছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here