চীন-ভারত সংঘর্ষ: আমাদের হাততালি

গত কয়েকদিন হলো একটা বিষয় লক্ষ্য করছি তা হলো ভারত ও চীনের সীমান্ত লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের দেশে দুটি পক্ষ বাক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন, কেউ অতীত ইতিহাসের নানা দিক তুলে ধরছেন, কেউ পাকি কেউ রেন্ডিয়া বলে তৃপ্তি পাচ্ছেন কেউ বা আবার মনে মনে শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ পড়ছেন, বলছেন জয় হরিবল।কার কত সৈন্য মরলো তার স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এই আত্ম-তুষ্টির কারণই আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিপক্ষে যার অবস্থান ছিল স্পষ্ট, গণহত্যায় যার ইন্ধন ছিল, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছিল পাকিস্থানের পক্ষে, যাদের হাত উইঘরের মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত, সেই চীনা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিজের টাইমলাইনে দু’হাত তুলে মুনাজাতের ছবি দিয়ে মুসলিম দরদি হয়ে স্রষ্টার কাছে বিচার চেয়েছিলেন, নিজ বাস্তুভুমি আরাকান থেকে উৎখাত হওয়া ১১ লক্ষ্য বেওয়ারিশ রোহিঙ্গাকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়েছে চীনের গোপন ইশারায় দুধের শিশুও বোঝে সেই গল্পের কুশীলব কে।

মায়ানমারের মত দেশ বার বার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বিমান টহল দিয়েছে আমাদের সীমানায় আর আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়েছে অবিরত। এই ঔদ্ধ্যত্বের পিছনের ইন্ধনদাতা কে? সহজ উত্তর আরাকানের বিশাল অঞ্চল জুড়ে চীনের শিল্প বানিজ্যের রমরমা আখরা তৈরির গোপন নকশা। বিশ্ববাজারের পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় বাধা চীন সেই সাথে স্বল্প মূল্যের চীনা পন্যের আমদানিতে দেশি বাজার সয়লাব ফলে দেশি শিল্প চরম হুমকির মুখে এ নিয়ে কারো তেমন কোন বক্তব্য নেই। জিইও- পলিটিক্স এর কেন্দ্রভূমি বঙ্গোপসাগর আর বিশাল নীল পানির সম্পদ। এটা নিয়ে কাড়াকাড়ি আর কর্তৃত্বের খেলা মোড়লদের মধ্যে হবে সেটা আমাদের কাছে অজানা নয়। তাই আমাদের খুশি বা আত্মতৃপ্ত হওয়ার কিছু নাই। প্রতিবেশি দেশ ভারত মহান মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। যে ভারত মুক্তিযুদ্ধ কালে এক কোটি উদবাস্তুকে আশ্রয় দিল, খাবার দিল, যুদ্ধে সেনা পাঠাল, প্রশিক্ষণ দিল, যৌথ মুক্তিবাহিনী গঠন করলো, রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য দেশে দেশে ছুটে বেড়ালেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, দেশ স্বাধিনতা লাভের অব্যবহিত পরেই ভারতীয় সৈন্য ফিরে গেল ভারতে যা শুধু বিস্ময়ই নয় অসম্ভবও ছিল বটে। এত অবদান থাকা সত্বেও কেন ভারত বিদ্বেষী একটা প্রজন্ম গড়ে উঠল,রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ হয়ে উঠল ভারত বিরোধী। সেটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

এই জায়গায় আলোচনা করতে গেলে কিছু কারণ হয়ে উঠবে মূখ্য হয়তো অনেকে এতে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, ধর্ম এক্ষেত্রে একটা বড় কারণ। কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্বহীন রাজনীতির বিপরীতে ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগ ধর্ম বা সম্প্রদায় ভিত্তিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক হিস্যা আদায়ের প্রতিযোগিতা। লাহোর প্রস্তাব তো ভারত বিভাজনের মাইট্রোকন্ডিয়া যার স্পিরিটই ছিল ধর্ম। পাকিস্তানকে এখনও বাংলাদেশের যতমানুষ বন্ধু ভাবে, তার মূল কারণ ধর্ম। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের ঘটানো গণহত্যা, নিপীড়ন তাদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ। আর কাশ্মিরের নিজ শাসনের অধিকার কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রের বাক্সবন্ধি খেলা আর দমনের দৃশ্য ধর্মের চ্যানেলে সীমানা পেরিয়ে মুসলিম হৃদয়ে যে দাগ কেটেছে তার ক্ষত অনেক গভীরে প্রোথিত। কারণ ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। সম্প্রতি বিতর্কিত সিএএ, এনআরসি, সিএবি দিয়ে মুসলমানদের নাগরিকত্বহীন করার আশংকা, জামেয়া মিল্লিয়া, হায়দারাবাদ ইউনিভার্সিটিসহ সিএএ এর প্রতিবাদে পুলিশি রক্তাক্ত প্রানঘাতি এ্যাকশন, দিল্লির দাঙ্গায় জয়শ্রীরাম বলে উন্মত্ত হিংসার অস্ত্রে নিরীহ মানুষের দেহকে ছিন্নভিন্ন করার ভাইরাল হওয়া বিভৎস চিত্র, মসজিদের সুউচ্চ মিনারে চাঁদ তারার কারুকার্য ভেঙ্গে হিন্দুত্ববাদি পতাকা উড়িয়ে গেরুয়া শিবিরের উল্লাস কিংবা গোমাংসা খাওয়ার অপরাধে আকলাখদের মত কিছু নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে মারা আর্তনাদের সাথে ধর্মের যোগসূত্রে পৌঁছে গেছে স্বশিবিরে যা বন্ধুত্ব বা শত্রুতা তৈরির উপাদান হিসেবে যথেষ্ট।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনে বাংলাদেশের মানুষ যেমন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ, ঠিক একই কারণে কিছু মানুষ ভারতের বিরুদ্ধেও। ১৯৭১ সালে বিরুদ্ধে থাকা মানুষের সংখ্যা কম ছিল। এরপর যত সময় গেছে, বিরোধীতা ততই বেড়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এদেশে ভারত বিরোধী রাজনীতি তীব্র হয়েছে। বিক্ষুব্ধতা আর নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে ভয়ানকভাবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সম্পদহীন স্বাধীন ভূ-খণ্ডে মানুষের চাহিদা পূরণ অসম্ভব ছিল। মানুষ তা বোঝেনি। বোঝানোর কোনও মেকানিজমও কাজ করেনি। ভারতীয় সৈন্যরা যাওয়ার সময় সব কিছু নিয়ে গেছে, এই প্রচারণা এতটা তীব্র ছিল যে, তা মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেয়। যদিও পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর কিছু অস্ত্র ছাড়া ভারত অন্য কোনও সম্পদ বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। ভারত যে এত দ্রুত নিজেদের সৈন্য স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিলো, তা খুব একটা আলোচনায় আসে নি। পাশে ছোট একটি দেশে বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় নেতার বিশালত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া মেনে নিতে চায়নি ভারত, এই ধারণাও বাংলাদেশের অনেক মানুষের মনে পোষন করে থাকে। এসবই অনুমাননির্ভর অভিযোগ, কোনোটিরই সত্যতা নিশ্চিত নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিকরণের জন্যে ভারতবিরোধিতা পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের ভুল নীতি এবং সেই কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের দুর্বল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তারা সফলও হয়। ট্রানজিটের বিনিময়ে ভারতের শুল্ক দিতে গড়িমসি আচরণ, শুরুতে ট্রানজিটের যে গুরুত্বের কথা বলা হয়েছিল পরবর্তী সময়ে তা না থাকা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতকে সর্বাত্মক সহায়তা করার পরও তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে বিরোধিতা বাড়তেই থাকে। সীমান্তে গুলি করে মানুষ হত্যা করার বিষয়টি ভারত গুরুত্বের মধ্যেই আনতে চায় না।

সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা, ভারত ইচ্ছে করলেই বন্ধ করতে পারে। কাঁটাতারে ফেলানির ঝুঁলে থাকা লাশ অনেকেই বাংলাদেশকেই ঝুঁলে থাকার সাথে তুলনা করেছেন। চোরাচালান, পুশ ইন, পুশ ব্যাক প্রতিদিনের তাজা খবর।বাংলাদেশ ছোট এবং দুর্বল দেশ। সেই দেশের মানুষ ভারত বিরোধী হয়ে উঠল কী উঠল না, তা হয়ত ভারতের কাছে আসলে কোনও গুরুত্বই বহন করে না। ঢাকাইয়া জামদানি শাড়ি বা ইলিশ বিশ্ববাজারে ভারতের নামে ব্রান্ডিং হয়, আমাদের সোনালী আঁশ পাটের দুর্দিনে ভারতে পাটের সুদিন আসে, এদেশের চলৎচিত্রের কফিনে পেরেক ঠুকে যৌথ প্রযোজনার নামে ভারতীয় সিনেমার অগাধ প্রবেশ ঘটে, জি বাংলার আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে পাখি কিংবা ক্যাটরিনা পোশাকের একচেটিয়া বাজারের সৃষ্টি হয়, জটিল কুটিল চরিত্রের ধারাবাহিক পর্বে পারিবারিক, সামাজিক অবক্ষয়ের গড্ডলিকায় যখন বুদ হয়ে টালিউড বা বলিউড সংস্কৃতির সাথে নিজেদের মেলাতে যাই তখনি বুঝতে পারি আমাদের অজ্ঞতা কোথায়? পণ্য এবং পানির ডাম্পিং আমাদের জন্য অসময়ে বন্যা কিংবা খরা আর পণ্য সামগ্রীর আকাশ ছোঁয়া দাম অথবা কৃষক মারার লম্বা ফিরিস্তি আমাদের এখন মজ্জাগত। ক্রিকেট উন্মাদনায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অথবা দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্রের দর্শকদের ক্ষ্যাপাটে আচরণও অনেক ক্ষেত্রে ভারত বৈরিতাকে উস্কে দিচ্ছে।

চীন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে থাকলেও এ বিষয়ে কোনও ক্ষোভ দেখা যায় না। যুক্তি হলো এখন তো চীন বাংলাদেশের কোনও ক্ষতি করছে না। চীন সরাসরি পাকিস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে একবার ভেটো দিয়েছিল। এবার মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিলো, তা নিয়ে প্রায় কোনও সমালোচনা নেই। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসলো মূলত মিয়ানমারের পক্ষে লবিং করার জন্যে। মিয়ানমার চায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আলোচনা থেকে সরে আসুক। চীন জাতিসংঘে মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়ে বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারের পক্ষে লবিং করছে। অথচ তা নিয়ে বাংলাদেশে কোনও সমালোচনা নেই। এমন কাজ যদি ভারত করতো, সমালোচনার ঝড় বয়ে যেতো। ভারতের সাবেক কূটনীতিক-থিঙ্ক ট্যাংক পরিষ্কার করে বলেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কতটা কী করতে পারবে, খুব বেশি কিছু তারা করতে পারবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে এসে নিজে সরাসরি কিছু বলেননি।

যখন ভারতের নিরবতা দৃশ্যমান হলো, সমালোচনার মাঠ গরম করে ফেলল ভারত বিরোধীরা। সমালোচনায় যোগ দিলো, সাধারণভাবে ভারত বিরোধী নয় এমন অনেকে। বাংলাদেশের মানুষকে এটাও বোঝানো দরকার ছিল যে, ভেটো ক্ষমতাহীন ভারত যদি সরাসরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়ও, তাতেও মিয়ানমারের অবস্থানের পরিবর্তন হবে না। উল্টো মিয়ানমার আরও বেশি চীনের দিকে চলে যাবে। এতে বাংলাদেশ-ভারত কারও লাভ হবে না। উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা প্রতিয়মান হয় যে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম লগ্ন থেকে দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের সাথে মধুর ও তিক্ত সমপর্ক বিদ্যমান। একজন পরীক্ষিত বন্ধু আর একজন পরীক্ষিত শত্রু। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের ঝড়ো বাতাসে শত্রু মিত্রতে আর মিত্র শত্রুতে পরিণত হওয়ার প্রবনতায় আমাদের মত অর্থনৈতিক ভাবে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দেশ গুলোর জন্য কঠিন পরীক্ষা। ভারত চায় বাংলাদেশ তার পাশে থাকবে অকৃত্রিম ভাবে আর চায়না চায় নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে অকৃত্রিম সম্পর্ক তা কৃত্রিমতায় রূপান্তরিত করে নিজের পাশে দাঁড় করাতে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় রাজ করতে হলে উভয় মোড়লেরই বাংলাদেশকে খুব বেশি দরকার। একটাই কারণ ভু-রাজনৈতিক গুরুত্ব ।ভারত ও আরব সাগরের কোল ঘেঁষে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান। চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের গোয়াদার,শ্রীলংকার হাম্বানটোটায় বন্দর স্থাপন করেছে ভারত যাকে মুক্তার মালার সাথে তুলনা করেছে।

চীন তার আধিপত্যবলয় সৃষ্টি করার জন্য ভারত মহাসাগরকে মুক্তার মালার মত ঘিরে ফেলবে এরই ধারাবাহিকতায় তাদের পরবর্তী দৃষ্টি মায়ানমারের সিতওয়ে আর বাংলাদেশের চট্রগ্রাম বন্দর। এ ক্ষেত্রে ভারতকে তার সেভেন সিস্টারের স্থিতিশীলতা আর রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা রোধে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর পাশাপাশি বানিজ্যিক সম্পর্কের দিকগুলো আমলে নিয়ে প্রতিবেশি রাষ্ট্র সে ছোট হোক,দূর্বল হোক আস্থায় নিতে হবে, জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে তবেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের ফসল ঘরে তুলতে পারবে অন্যথায় চাকচিক্যময় রকমারি অফারে প্রাচ্যনীতিতে বাংলাদেশ ভীঁড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা! হয়ত খয়রাতি শব্দ ব্যবহার করে প্রতিবেশি দেশকে হীন করা যাবে কিন্ত বন্ধনের সিথিলতা থাকলে ফাঁকগলে অন্যের বন্দরে নোঙ্গর করবে, ইতিহাস অন্তত তাই বলে। তাই প্রত্যাশা করবো ঘরে আগুন লাগলে অন্তত প্রতিবেশি বা পরীক্ষীত বন্ধুই আসুক আগুন নিভাতে। অন্য কেউ নয়।

মোঃ সোলায়মান
সহযোগী অধ্যাপক,
ইতিহাস বিভাগ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here