চাকরির লিখিত পরীক্ষার খুঁটিনাটি বিষয়

অনেকের ধারণা, চাকরির লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে বেশি করে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। কেউ কেউ মনে করেন, বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্যপত্র বা ব্যাকরণে বানান ভুল ছাড়া অন্যান্য পত্রে বানান ভুলের কারণে নম্বর কাটা যায় না। প্রশ্ন ভালোভাবে না পড়ে অনেকেই উত্তর লেখা শুরু করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন কমন না পেয়ে হতাশায় ভোগেন। বেশ কিছু প্রশ্নের শেষভাগে প্রশ্নকর্তা আপনার মতামত, যুক্তি বা যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা জানতে চান। অথচ অনেকেই তা খেয়াল করেন না। ফলে উত্তরও যথাযথ হয় না।

ছাত্রাবস্থায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সঙ্গে চাকরির পরীক্ষা একইভাবে বিচার করে উত্তর লিখলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, কথাটি চাকরিপ্রার্থীকে অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে। প্রশ্নের উত্তর অনাবশ্যকভাবে বড় না করে টু দ্য পয়েন্ট হওয়া কাম্য। অতিরিক্ত লিখে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি পরীক্ষকের মনেও উত্তরদাতার বুদ্ধি-বিবেচনা সম্পর্কে সন্দেহ ও বিরক্তি জাগে।

কেউ কেউ টীকা বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে সময় হারিয়ে ফেলেন এবং শেষকালে বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর অতিসংক্ষেপে লিখতে হয়। এই অনাবশ্যক সময় নষ্ট করা কখনোই কাম্য নয়। তা ছাড়া হাতের লেখা ও বানান সম্পর্কে উদাসীনতা খারাপ পরিণামের জন্য অনেকাংশে দায়ী। প্রশ্নে– উল্লেখ করুন বা বর্ণনা করুন কিংবা বিবরণ দিন কথাগুলো ভালোভাবে দেখে উত্তর দিন।

প্রশ্নপত্রে আছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ লেখার কথা। আপনি প্রশ্নের বানানটি না দেখেই শিরোনামে ‘ভৌগলিক’ শব্দটি লিখলেন। যদি পুরো প্রশ্নের মান ১০ হয়, তবে নির্ঘাত আপনি কমপক্ষে দুটি নম্বর হারাবেন। কৃষিজীবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, বরাদ্দ, স্বায়ত্তশাসন, গণ–অভ্যুত্থান, গৃহীত ইত্যাদি সাধারণ বানান, যদি ভুল করেন তবে আপনার নম্বর প্রাপ্যতার চাইতে কমে যাবে, এটি নিশ্চিত। অনেকে জাতির পিতার নাম লিখতে মুজিবর লেখেন। এটি মারাত্মক ভুল হিসেবেই বিবেচনা করবেন পরীক্ষক। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর অবশ্যই যুক্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত না হলে বেশি নম্বর পাওয়া দুরাশার নামান্তর হবে। আপনার প্রতিটি উত্তরের শেষে যুক্তির উপস্থিতি না থাকলে সমস্যা হতে পারে। তাড়াহুড়ো নয়, টেনশন নয়, কে কী লিখল, তা নিয়ে ভাবনা নয়; বরং নিজে যেটুকু জানেন, সেটুকু সুন্দর করে পয়েন্টসহ সাজিয়ে লিখুন।

প্রশ্নের নম্বর ভুল করেন বেশ কিছু প্রার্থী। একটি লেখা শেষ করে যথোপযুক্ত গ্যাপ দিয়ে পরেরটি লেখা উচিত। প্রশ্নের নম্বর ভুল করলে আপনার শুধু পণ্ডশ্রমই হবে—কথাটি মনে রাখা দরকার।

মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, উদ্বিগ্ন হওয়া চলবে না, একটি প্রশ্নের উত্তর বা উত্তর–সংকেত হয়তো আরেকটি প্রশ্নের মধ্যেই রয়েছে। সেটি বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। গোছানো ২০ পৃষ্ঠা অগোছালো ৫০ পৃষ্ঠার চেয়ে উত্তম। নিজে থেকে উত্তর লেখার চেষ্টা করুন নিজের ভাষায়। নোট বা বইয়ের ভাষায় অথবা অনেকের সঙ্গে মিলে যায়—এমন গতানুগতিক উত্তরপত্র দুর্বল নম্বর পায়। আত্মবিশ্বাস লিখিত পরীক্ষার আসল শক্তি। এ জন্য বেশি মেধা খরচ না করলেও চলবে। নিজের মতো লিখতে অভ্যাস করুন, সুফল অবশ্যই মিলবে।

সাধারণ – ভুল
ভুল শুদ্ধ
সমুহ সমূহ
উদ্যেগ উদ্যোগ
ত্রিভূজ ত্রিভুজ
স্বাক্ষরতা সাক্ষরতা
পোষাক পোশাক
সর্বশান্ত সর্বস্বান্ত
পৈত্রিক পৈতৃক
মাংশ মাংস
মনি মণি
বরাদ্ধ বরাদ্দ
গৃহিত গৃহীত
দূর্গ দুর্গ
বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবী
স্বায়ত্ত্বশাসন স্বায়ত্তশাসন
উদ্ভুত উদ্ভূত
ভৌগলিক ভৌগোলিক
দারিদ্রতা দরিদ্রতা
বৈচিত্র বৈচিত্র্য
দারিদ্র দারিদ্র্য
উপাচার উপচার
সুষ্ঠ সুষ্ঠু
সত্ত্বা সত্তা
অভ্যূদয় অভ্যুদয়
দূর্গত দুর্গত
প্রমান প্রমাণ
দূরবস্থা দুরবস্থা
কৃষিজীবি কৃষিজীবী
অঙ্গণ অঙ্গন
প্রাঙ্গন প্রাঙ্গণ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here