চাকরির জন্য ছেলের হাতে বাবা খুন

সরকারি চাকরি পেতে বাবাকে খুন করলো ছেলে। ভারতের ছত্তীসগঢ়ের জশপুর জেলার সান্না গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

ছত্তীসগঢ়ের সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী ছিলেন মহাবীর সাই। চাকরি শেষ হতে আর দিন সাতেক বাকি ছিল তার। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গত রবিবার তার মরদেহ খুঁজে পান গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে। তার মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বেশ কয়েক জনকে আটকও করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহাবীরের ছোট ছেলে জীবন সাইকেও আটক করে পুলিশ। পুলিশি জেরার মুখে জীবন স্বীকার করে যে, সেই তার বাবাকে খুন করেছে। এ কাজে তাকে সাহায্য করেছিল আরও দুই ব্যক্তি। বাবার সরকারি চাকরি পাওয়ার আশাতেই বাবাকে খুন করেছে বলে জানায় জীবন।

এ প্রসঙ্গে জসপুরের এসপি শঙ্কর লাল বাঘেল মঙ্গলবার বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখেছি এই সপ্তাহে অবসর নিতেন মহাবীর। তার ছোট ছেলে জীবন সাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়, সে খুন করেছে বলে স্বীকার করে। সে জানিয়েছে, সরকারি চাকরি পেতেই বাবাকে খুন করেছে। সেই খুনে আরও দু’জন তাকে সাহায্য করেছিল। সোমবার আমরা তিনজনকেই গ্রেফতার করেছি।’

সরকারি চাকরির জন্য বাবাকে খুনের ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ রকমই এক ঘটনা চমকে দিয়েছিল উত্তর প্রদেশের মেরাঠ বাসীকে। সেখানেও সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় বাবাকে হত্যা করেছিল ২২ বছরের ছেলে। পুলিশি জেরার সময় হত্যাকারী ছেলে জানিয়েছিল, সরকারি চাকরি না পেলে তাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না তার বান্ধবী। তাই বাবার সরকারি চাকরি হাতাতে বাবাকে খুন করার পরিকল্পনা করে সে।

প্রসঙ্গত, ভারতে চাকরি করা অবস্থায় কোনো সরকারি চাকরিজীবী যদি মারা যান এবং তার পরিবারের কেউ যোগ্য হলে তাকে সেই চাকরি সাধারণত দেওয়া হয়ে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকারি চাকরি করা বাবাকে খুন করল ছেলে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here