চাকরিপ্রার্থী ও ভর্তিচ্ছুদের কোচিংকে বৈধতা দিয়ে হচ্ছে শিক্ষা আইন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার (২ মে) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে বৈঠক করেন। এছাড়া সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ সভায় অংশ নেন। ওইদিনই ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

সোমবার (৩ মে) এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা আইন দীর্ঘ দিনেও চেষ্টা করে করা যায়নি। এখন সেটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দিক থেকে আমরা চূড়ান্ত করেছি। এটি মন্ত্রিপরিষদে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা আইনটি হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবো।

এ আইনে চাকরিপ্রার্থী, ভর্তিচ্ছুক ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে ইচ্ছুকদের জন্য স্থাপিত কোচিং সেন্টার অবশ্য আওতার বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাছাড়া আইনে নোটবই ও গাইড বই ছাপানো, প্রকাশনা ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

তবে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনির মাধ্যমে পড়াতে পারবেন না। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়ার ওপরেও আসছে নিষেধাজ্ঞা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, খসড়া আইনে নোট ও গাইড বই ছাপানো, প্রকাশ ও বিপণনের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যদি কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নোট বই অথবা গাইড বই কিনতে বাধ্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, সরকার শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিপূরক ও শিক্ষা সহায়িকা বই প্রকাশের অনুমতি দেবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরিপূরক ও শিক্ষা সহায়িকা বই কিনতে বাধ্য করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে অভিভাবকদের অনুমতি সাপেক্ষে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারে। এই ক্লাসগুলো স্কুলের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে বা পরে আয়োজন করতে হবে।

খসড়া আইনে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করলে তা শিক্ষকদের অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কিংবা সরকার নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আইনের খসড়া আইনটির ভাষা ঠিক করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভাষা বাস্তবায়ন কোষ কমিটির কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে খসড়াটি মন্ত্রিসভার একটি কমিটির কাছেও পাঠাব। তারা মন্ত্রিসভায় খসড়া আইন অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের আগে সেটির পর্যালোচনা করে থাকেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী একটি শিক্ষা আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষানীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে এতে একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত খসড়া আইন তৈরির জন্য শিক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটির একটি উপ-কমিটিকে ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় শিক্ষা আইনের একটি খসড়া পাঠায়। কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানোকে ‘শ্যাডো এডুকেশন’ নামে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে খসড়াটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here