চলে যাচ্ছে রমজান, নূন্যতম হকও কি আদায় করতে পেরেছি?

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের শান্তির বার্তা নিয়ে মাহে রমজান আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছিলো। আস্তে আস্তে আবার চলেও যাচ্ছে। সঙ্গে চলে যাচ্ছে রোজা, সেহরি, ইফতার, কোরআন তেলাওয়াত, তারাবি, ইতিকাফ ও দান-সদকার মতো বিশেষ বিশেষ ইবাদতের সব সুযোগুলোও।

আমরা কি পেরেছি সেসব ইবাদতের সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে। পুরোপুরি না হোক, নূন্যতম হকও কি আদায় করতে পেরেছি?

আমরা সবাই জানি কোরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান। এই কোরআনই রমজান মাসকে দামী করেছে। তেমনি এ মাসের হক আদায়ে যারা সচেষ্ট হবে নিসন্দেহে তারাও দামী হবে তাতে কোনো ভুল নেই। রমজান মাসে সেহরি, ইফতার, তারাবিসহ সব সময়ে আল্লাহর রহমত ও অনাবিল প্রশান্তি বিরাজ করে। এ মাসে একটি ফরজ নামাজ ৭০টি ফরজ নামাজের সমান। আর ১টি নফল ১টি ফরজ নামাজের সমান। পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে অভাবনীয় সুযোগ। এক অক্ষরেই পাওয়া যাবে ৭০০ নেকী। কেউ যদি নিজে না পড়ে অন্যের তেলাওয়াত শুনে তাতেও রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। পূর্ববর্তী কোনো উম্মতের জন্য অল্প সময়ে নেকী অর্জনের এত বড় সুযোগ ছিলো না। কাজেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। আর মাত্র দু-তিন দিন। তারপর আর এ সুবর্ণ সুযোগটি থাকছে না।

রমজান মাসে দান খয়রাতেও রয়েছে অনেক সওয়াব। ১ টাকা দানে ৭০ টাকা দানের সওয়াব যা অন্য ১১ মাসে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের অনেকেরই সামর্থ্য নেই বলে রমজান মাসে ওমরাহ করার অফুরন্ত সওয়াবের সুযোগ লুফে নিতে পারি না। আবার এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে যাদের সামথ্য আছে তারাও ওমরা করতে পারেনি। কিন্তু যতটুকু সুযোগ আমাদের হাতের নাগালে আছে তাতো নেয়াই যায়। জীবনে আরেকটি রমজান মাস পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সময় থাকতে নেকী লুট করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া জরুরি।

রমজান শুধু একটি মাসেরই নাম নয় এটি হচ্ছে একটি ‘চিকিৎসা’, যেটা সামনের পুরো এগারোটি মাসের ওপর নিয়ন্ত্রন রাখে। এ মাসটি হচ্ছে আত্ম শুদ্ধি, ও আত্ম সমালোচনার মাস। পুরো মাসেই আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মার ধনী-গরিব মানুষগুলোর সব ভেদাভেদ দূর করে এক কাতারে দাড় করায়। যাতে ধনিরা অনুধাবন করতে পারে গরিবের অনাহারের কষ্ট। আর তারা এই কষ্ট অনুধাবন করে যেন মহান আল্লাহর বিধান জাকাত প্রদান করে সমাজের ধনী, গরিব সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে এটাই আল্লাহর বিধান।

শুধু তাই নয়, রমজান আমাদের সুশৃঙ্খল হতে শিখায়, সংযমী হতে শিখায়, আত্নশুদ্ধি অর্জন করতে শিখায়। তাই আসুন আমরা রমজানের শিক্ষাকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করি। জাকাত প্রদান করি, তবে অবশ্যই সুশৃঙ্খল ভাবে। আমাদের যেন একমাত্র উদ্দেশ্য হয় লোক দেখানো নয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। তাহলেই আমরা সফলকাম হতে পারবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here