গোপন ক্যামেরায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশা

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পিপিই’র সরবরাহ বাড়াতে মালয়েশিয়ান কোম্পানিতে অনেক প্রবাসী শ্রমিককে ‘জোর করে’, ‘খুনের হুমকি’ দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। মানবেতর পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা এই শ্রমিকদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি নাগরিক।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন সিবিসি.সিএ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শ্রমিকদের এই দুর্দশার কথা জানা গেছে। কানাডার প্রভাবশালী গণমাধ্যমটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কাজের পরিবেশ এবং বসবাসের জায়গার কথা তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্লভ কোম্পানিতে কভিড-১৯ প্রটোকল বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এমন একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে যেখান থেকে ৬ হাজার মানুষের শরীরে নতুন রোগটি ছড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে রহমত নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশি একটি এজেন্সির খপ্পরে পড়ে তিনগুণ বেশি টাকা দিয়ে তিনি মালয়েশিয়া যান।

দোভাষীর সাহায্যে সিবিসি মার্কেটপ্লেসকে রহমত বলেন, ‘আমি তাড়াতাড়ি মালয়েশিয়া আসতে চেয়েছিলাম। যাতে পরিবারকে সাহায্য করতে পারি।’

‘টাকা জোগাড় করতে জমি বিক্রি করে বিদেশে আসি। সুদেও টাকা আনি। সেসব শোধ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে।’

রহমত মালয়েশিয়া গিয়ে বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। যে কাজের কথা বলে নেয়া হয়, সেটি তাকে দেয়া হয়নি।

‘আমাকে বলা হয়েছিল এসির কাজ দেয়া হবে। কাজটি ভালো। কিন্তু মালয়েশিয়া এসে বুঝতে পারি ঠকেছি।’

‘আমাকে ১২ ঘণ্টা করে খাটতে হতো। খুব গরম রুমে থাকতে হতো। ২৩ জন করে।’

সুপারভাইজারের কাছে অভিযোগ জানালে পড়েন উল্টো বিপদে। তাকে টার্গেটে পরিণত করা হয়।

‘অভিযোগ দেয়ার পর আমাকে প্রচুর মারা হয়। প্রতিদিন হেলমেট দিয়ে দুই থেকে তিনবার মেরেছে।’

‘আমাকে বলেছে হয় বাংলাদেশে যাবি, না হয় টপ গ্লভ ছাড়বি। যদি থাকে তাহলে মেরে ফেলবে।’

রহমত জীবনের ভয়ে টপ গ্লভ কোম্পানিতে আর কাজ করেননি। এখন অবৈধ অভিবাসী হয়ে মালয়েশিয়ায় তার দিন কাটছে। সারাক্ষণ গ্রেপ্তারের ভয় তাড়া করে। ওদিকে টাকার অভাবে দেশেও ফিরতে পারছেন না।

রহমতের ভয় আরও বেশি বাড়ির কথা ভেবে। সুদের টাকা শোধ দিতে না পারলে ভিটেমাটিও যাবে।

‘ঘুমাতে পারি না। খুব ভয় করে সারাক্ষণ। কাজও পাচ্ছি না।’

রহমতরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করেন, তার অধিকাংশ ক্রেতা কানাডার। তিনি দেশটির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কানাডা ক্রয় বন্ধ না করলে এরা শ্রমিকদের শান্তি দেবে না।’

টপ গ্লভের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধরাবাঁধা জবাব এসেছে, ‘আমরা সহিংসতা, হেনস্তা, নির্যাতন সহ্য করি না। খুব গুরুত্ব দিয়ে এসব দেখা হয়।’

সিবিসি আরও কয়েকটি গ্লভ কোম্পানির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here