গভীর রাতে গোপনে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেন হাবিপ্রবি ভিসি

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮ দিন আগেই স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলে গোপনে কাউকে কিছু না জানিয়ে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে গেছেন।

তাঁর এই  প্রস্থানকে শিক্ষক-ছাত্ররা পালিয়ে যাওয়া বলছেন। যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে নোট দিয়ে গেছেন।…… উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র ১৮ দিন। মেয়াদ পূর্তির এই শেষ সময়ে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈরি আচরণ, ক্লাশ-পরীক্ষা চালুসহ বিভিন্ন দাবী নিয়ে মঙ্গলবার ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনের ভিতরে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে অবস্থান নেয় পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন।

সারাদিন অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের দরজায় বসে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে ছাত্রলীদের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত অনড় থাকার ঘোষণা দেন তারা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানায়- বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে আসলেও সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপাচার্য তাদের সাথে দেখা করেননি এবং কথা বলেননি।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভিসির বাসভবনে সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে শতাধিক শিক্ষার্থী। বিকেলের দিকে বেশ কিছু ছাত্র বাসভবনের প্রাচীর টপকে ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনকে খবর দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল আব্বাসী ও পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করেন। বাইরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীরমুক্তি যোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবারের ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। সস্তোষ জনক সমাধানও হয়। কিন্তু সকালে জানতে পারি তিনি রাত সাড়ে ৩টায় তাঁর পরিবার নিয়ে বাসভবন ছেড়ে চলে গেছেন। যাওয়ার আগে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে একটি নোট রেখে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, সকাল সাড়ে ৮ টার সময় উপাচার্য আমাকে ফোনে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি ঢাকায় চলে গেছেন। কিন্তু বিষয়টি আমরা কেউ নিশ্চিত নই তিনি কোথায় গেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here