চলতি ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রবেশের ভিসা পাননি ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজৌব। বিশ্বকাপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করলেও তাকে এই দুই দেশ ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিবরিল রাজৌব জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ভিসা না পেলেও অপর সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো তাকে ভিসা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি।
মেক্সিকো থেকে এএফপিকে টেলিফোনে রাজৌব বলেন, ‘আম্মানে (জর্ডান) আবেদন করার পরও তারা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়নি। তাদের এই আচরণ হাস্যকর। আমি এখন মেক্সিকোতে আছি, এখানে তিউনিসিয়ার ম্যাচটি দেখব এবং এরপর ফিলিস্তিনে ফিরে যাব।’
বিশ্বকাপের আরেক সহ-আয়োজক দেশ কানাডার ভিসাও পাননি বলে এএফপিকে নিশ্চিত করেন ফিলিস্তিন ফুটবলপ্রধান। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট মহল চায় না আমরা ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনা করি।’
ভিসা প্রত্যাখানের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে দায়ী করা হচ্ছে। গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিয়েছিলেন রাজৌব। সে সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি অনুরোধ তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছবিতে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন রাজৌব, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে আসছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে গড়ে ওঠা ক্লাবগুলো কোনোভাবেই ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না। এই ইস্যুতে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল ফিলিস্তিন। তবে ফিফা এই বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায়, ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করেছে। এই আইনি লড়াইয়ের কারণেই রাজৌব পশ্চিমা দেশগুলোর নজরে এসেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বর্তমান বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের নাগরিক, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
জিবরিল রাজৌব একাই নন, এর আগে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ইরান ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন সাপোর্টিং স্টাফ এবং সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের ফুটবল সমর্থকদেরও ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ফুটবল আসরে ফিফা যেখানে বর্ণবাদ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত খেলার কথা বলে, সেখানে আয়োজক দেশগুলোর এমন একপেশে ভিসা নীতি টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।





