কোয়ারেন্টিনে মাওলানা সাদ, করোনায় আক্রান্তের শঙ্কা

‘করোনাভাইরাস সতর্কতা মুসলিম ভাইদের থেকে মুসলমানদের দূরে রাখার ষড়যন্ত্র। ডাক্তারের কথা শুনে নামাজ বন্ধ করে, পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে থাকার সময় নয়। হ্যাঁ, ভাইরাস আছে। কিন্তু আমার সঙ্গে ৭০ হাজার ফেরেশতাও আছে। তারা যদি আমাকে রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে কে পারবেন? এখন এই ধরনের জমায়েত আরও বেশি করে করার সময়, পরস্পরকে এড়িয়ে চলার সময় নয়। আমরা একত্রিত হলে রোগ ছড়াবে, কে বলেছে?’ এমন বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত তাবলিগ জামাত প্রধান মাওলানা সাদ কান্দলভি নিজেই এখন সেলফ কোয়ারেন্টিনে।

জনসমাগমের মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ভারতের তাবলিগ জামাতের প্রধান মাওলানা সাদ কান্ধলভিসহ সাত জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের মোজাফফরনগরসহ দিল্লির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে মাওলানা সাদকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও অডিও বার্তায় তিনি সেলফ কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা জানিয়েছেন। অনুসারীদের দিয়েছেন সরকারি নির্দেশনা মানার পরামর্শ।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মাওলানা সাদও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর তার খোঁজে অন্তত ১৪টি হাসপাতালে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বুধবার প্রকাশ হয়েছে মাওলানা সাদের দুটি অডিও ক্লিপ। তিনি দাবি করেছেন ডাক্তারের পরামর্শে দিল্লিতে সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে আছেন।

মারকাজ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত প্রথম অডিও বার্তায় তাকে বলতে শোনা যায়, মৃত্যুর সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো মসজিদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন করোনাভাইরাস তার অনুসারীদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।

দ্বিতীয় অডিও বার্তায় তিনি তাবলিগের সদস্যদের সরকারি নির্দেশনা মেনে নিয়ে ভিড় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। এতে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এখন দুনিয়ায় যা কিছু ঘটছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ফল। আমাদের বাড়িতে থাকা উচিত, আল্লাহর ক্রোধ প্রশমনের সেটাই একমাত্র পথ। প্রত্যেকের ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত। আমাদের সদস্যরা যেখানেই থাকুন না কেন তারা প্রশাসনের আদেশ মেনে চলুন’। তিনি বলেন, ‘কোথায় আছেন সেটা বিষয় নয়, নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রাখুন। এটা ইসলাম ও শরিয়ত বিরোধী নয়।’

গত ১ মার্চ দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ মসজিদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন তবলিগ জামাতের একটি ধর্মীয় সমাবেশ শুরু হয়। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরগিজস্তানের প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ ওই আয়োজনে অংশ নেন। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও অনেকে সেখানে থেকে যান। পরে করোনা ছড়িয়ে পড়লে মসজিদটি খালি করে দেওয়া হয়।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ৮৫০ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষের। তবলিগ জামাতের যোগসূত্রে বিভিন্ন রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই সমাবেশ করায় তাবলিগ জামাতের প্রধান মাওলানা সাদ কান্দলভিসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।

সূত্র- এনডিটিভি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here