ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র তার বাবা কৃষক এমন পরিচয় দিতে লজ্জা পাচ্ছিলেন জানিয়ে এক ফেসবুক স্টাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসান।

আজ রোববার রাতে ফারুক হাসান তার ফেইসবুকে এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

”আমার কৃষক ‘বাবা’❤

আমি যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গর্বিত, আমি সবসময় বুকফুলিয়ে বলি আমি একজন কৃষকবাবার সন্তান। আমার বাবাও আমাকে নিয়ে অনেক বেশি গর্বিত সেইসাথে কিছুটা শংকিতও কারন সবসময় আন্দোলন সংগ্রামে থাকার কারণে ২৪ টি ঘন্টা তারা আমাকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় থাকে। আজকে এই কথা গুলো বলার কিছু কারণ রয়েছে:…….

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। তখন একটা স্কলারশিপের জন্য হলফান্ডে আবেদন করলে সেটাতে আমি সিলেক্টেড হয়ে যায়। তারপর হল প্রভোস্টের রুমে আমাদের সাক্ষাতকারের পালা, সেখানে আমিসহ অনেক শিক্ষার্থীই উপস্থিত ছিল যারা স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই প্রভোস্ট মহোদয় বাবার পেশা কি জিজ্ঞেস করলে আমরা সবাই যে যার বাবার পেশার কথা বললাম। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীকে দেখলাম বাবার পেশার কথা বলতে চাচ্ছে না (কিছুটা লজ্জাবোধ করতেছে), আমতা আমতা করতেছে। তখন প্রভোস্ট স্যার কিছুটা ধমকের সুরে বললেন বাবার পেশা কি, এরপরে সেই ছেলে বলল বাবা কৃষক। সেই ছেলের মুখে এই উত্তর পাওয়ার পর স্যারসহ উপস্থিত বোর্ডের সদস্যবৃন্দ ঐ ছেলেকে অনেক বোকা দিয়ে বললেন ”তোমার বাবা কৃষক এটাতো তোমার জন্য গর্বের বিষয়, তোমার বাবা একজন কৃষক হয়েও তোমাকে ঢাবিতে পড়াচ্ছে এরপরও তুমি বাবার পেশা বলতে লজ্জা পাচ্ছো”। স্যার নিজেই উনার জীবনের কিছু ইতিহাস শুনালেন, তিনি নিজেও একজন কৃষক বাবার সন্তান। আমার চোঁখ দিয়ে পানি চলে আসছিল, স্যারের জীবনের সেই কথা গুলো শুনে।

আজকে আবার এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হলাম, তাই সকলের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বলা।

সকলের প্রতি আমার উদাত্ত আহব্বান থাকবে, কখনোই জন্মদাতা পিতা-মাতার পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না। বাবা মা যদি দিনমজুরও হয় তবুও বুকফুলিয়ে বাবা মায়ের পরিচয় তুলে ধরবেন। এতে সৃষ্টিকর্তাও খুশি হবেন আর আপনি নিজেও অনেক বড় হবেন একদিন ইনশাআল্লাহ।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here