কাবা শরিফে যে কারণে রাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ

মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববি ছাড়া সৌদি আরবের সব মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনার এ দুই পবিত্র মসজিদ ইশার নামাজের পরপরই বন্ধ হয়ে যায়। ফজরের আজানের একটু আগে তা আবার খুলে দেয়া হয়। রাতের এ সময়টুকু মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির ভেতরে কী ঘটছে? রাতের এ সময় তা বন্ধ রাখার কারণই বা কী?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের হারামাইনডটইনফো (haramain.info) পেজে রোববার এর কারণ তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। আর এতে তুলে ধরা হয়েছে সচিত্র প্রতিবেদন।

পবিত্র এ দুই মসজিদে তাওয়াফ ও জেয়ারত করতে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় রাতভর মসজিদের প্রতিটি জিনিস জীবাণুমুক্ত করতেই সারারাত বন্ধ রাখা হয় এ দুই পবিত্র মসজিদ।

রাতভর উভয় মসজিদে ভেতরের প্রতিটি জিনিস জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। ভিডিওতে তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

মসজিদে হারামের ভেতরে রাখা নামাজের মুসাল্লা, তাকে রাখা কুরআন, লাইটসহ যত আসবাবপত্র রয়েছে তার সবই জীবণুনাশক দিয়ে পরিচ্ছন্ন করা হয়।

মসজিদে হারামের ভেতরে এমন কোনো জিনিস বাদ থাকে না যা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিচ্ছন্ন করা হয় না। বরং প্রতিটি সিঙ্গেল জিনিসই পরিচ্ছন্ন করা হয়।

মসজিদে হারামের ভেতরে সংরক্ষিত কুরআন ও ইসলামি বইগুলোও একটি একটি করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় প্রতিদিন।

মসজিদে হারামের চারপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবাণুনাশক ওষুধ রাখা হয় এবং পরিষ্কার করা হয় সব চলন্ত সিঁড়ি।

যদিও পবিত্র কাবা শরিফের কাছাকাছি তাওয়াফ নিষিদ্ধ তথাপি তা প্রতিদিন ছয়বার পরিচ্ছন্ন করা হয়। রাতেও কাবা শরিফে জীবাণুমুক্ত রাখতে কাজ করা হয়।

দিনভর পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি একদল দক্ষ সেবক পুরো মসজিদে হারাম পুরোপুরি পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত থাকে। রাতভর পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত জনবল ও সরঞ্জামের তালিকা হলো-

>> ৩৩০ জন দক্ষ সেবক।
>> ১০টি ফ্লোর পরিচ্ছন্ন মেশিন।
>> অত্যাধুনিক ৮৬টি জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন।
>> ১ হাজার ৮০০ লিটার জীবাণুনাশক লিকুইড ব্যবহার।
>> ফজর থেকে ইশা পর্যন্ত ৩ বার পরিচ্ছন্ন করা হয়।
>> নামাজের জন্য বিছানো কার্পেটগুলো মুসল্লিদের জন্য জীবাণুমুক্ত করা হয়।

পবিত্র কাবা শরিফকে জীবাণুমুক্ত রাখতে এবং এ দুই পবিত্র মসজিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে হারামাইন কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যে কারণে ইশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকে এ দুই পবিত্র মসজিদ।

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে স্পন্দন ও আবেগের সর্বোচ্চ স্থান পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদে নববিকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সবারই সার্বিক সহযোগিতা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা এ পবিত্র দুই স্থানকে করোনামুক্ত রাখার পাশাপাশি বিশ্ব মানবতাকে করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখুন। করোনা থেকে বেঁচে থাকতে কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনাগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here