করোনায় শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নভেল করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী আখ্যা দিয়েছে। এ ব্যধিতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটে, যাতে ৮৯% রোগীদের শ্বাসনালীর সংক্রমণ ও জ্বর থাকে, ৬৮% রোগীদের কাশি, ৩৪% রোগীদের অতিরিক্ত কফ শ্বাসতন্ত্রে জমা ও ১৯% রোগীদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এছাড়া ১৫% রোগীদের শ্বাসকস্টের চিকিৎসা এবং ৫% রোগীদের ভ্যান্টিলশন বা লাইফ সাপোর্ট লাগে।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীরা বেশি ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করা হয়। প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ব্যক্তিগণ এ সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন, যাদের ফুসফুসের দূর্বল তারাও প্রায় সমান ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইসিইউতে শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্ষমতার উন্নতিতে ও অতিরিক্ত কফ নিঃসরণ করে শ্বাসতন্ত্র সুরক্ষায় ‘চেস্ট ফিজিওথেরাপি বা রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের (বিপিএ) সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এম শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু নভেল করোনা ভাইরাসে শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায় ও দূর্বল রোগীদের ঝুকি বেশি, তাই এক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নির্দেশিত ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ, ব্রিদিং কন্ট্রোল এক্সারসাইজ, একটিভ সাইকেল অব ব্রিদিং টেকনিক ও এরোবিক এক্সারসাইজ খুবই কার্যকর। এ রোগে সুস্থ হওয়া রোগীদেরও দীর্ঘদিন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকায় ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দেয়ার জন্য স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।’

উল্লেখ্য বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এম শাহাদাৎ হোসেন (পিটি) এর সমন্বয়ে সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়, শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) ও ডব্লিউসিপিটি এশিয়া ওয়েস্টার্ণ প্যাসিফিক এর দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করেছে, যারা জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here