চলতি বিশ্বকাপের ১৯তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাউদাম্পটনের এই ম্যাচে সহজেই ক্যারিবীয়ানদের হারিয়েছে ইংলিশরা। উইন্ডিজদের ৮ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নিল ইংলিশরা। ব্যাট হাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম আর চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ইংলিশ ওপেনার জো রুট। তার আগে বল হাতে দুই উইকেটও তুলে নেন তিনি। ম্যাচ সেরাও নির্বাচিত হন জো রুট।

চার ম্যাচে তিন জয় আর একটিতে হেরে শিরোপা পথেই এগুচ্ছে বেন স্টোকস, ইয়ন মরগান, জো রুট, ক্রিস ওকসদের দলটি। অন্যদিকে সমান চার ম্যাচে এক জয়, দুই পরাজয় আর এক ড্র নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকবে উইন্ডিজরা।

উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ৪৪.৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে উইন্ডিজরা তোলে ২১২ রান। জবাবে, ৩৩.১ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে ইংলিশরা। হাতে বল বাকি ছিল আরও ১০১টি।

উভয় দলই নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে সাউদাম্পটনের হ্যাম্পশায়ার বোলে শুক্রবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় মাঠে নামে। এ ম্যাচে ইংল্যান্ড অপরিবর্তিত দল নিয়ে নামলেও দলে তিন পরিবর্তন আনে উইন্ডিজ।

ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে নামেন এভিন লুইস এবং ক্রিস গেইল। ব্যক্তিগত ২ রান করে ক্রিস ওকসের বলে বোল্ড হন লুইস। গেইল করেন ৩৬ রান। তার ৪১ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার আর একটি ছক্কার মার। শাই হোপ ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। চার নম্বরে নেমে ফিফটির দেখা পান নিকোলাস পুরান। ৪৮ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ৩৯ রান করে বিদায় নেন শিমরন হেটমায়ার।

দলপতি জেসন হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ রান। আন্দ্রে রাসেল দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বিদায় নেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল একটি চার আর দুটি ছক্কা। ইনিংসের ৪০তম ওভারে জোফরা আর্চার ফিরিয়ে দেন ৬৩ রান করা নিকোলাস পুরানকে। বিদায়ের আগে ৭৮ বলে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের বলেই আর্চার ফিরিয়ে দেন শেলডন কটরেলকে। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে সেটি করতে পারেননি আর্চার। কার্লোস ব্রাথওয়েট ১৪ রান করেন।

জোফরা আর্চার, মার্ক উড তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। দুটি উইকেট দখল করেন জো রুট। একটি করে উইকেট পান ক্রিস ওকস এবং লিয়াম প্লাংকেট।

২১৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধনে নামেন ইংলিশ দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্টো এবং জো রুট। ১৪.৪ ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙার আগে তারা তুলে নেন ৯৫ রান। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে কার্লোস ব্রাথওয়েটের তালুবন্দি হওয়ার আগে বেয়ারস্টো করেন ৪৫ রান। তার ৪৬ বলের ইনিংসে ছিল সাতটি বাউন্ডারির মার।

এরপর জুটি গড়েন আরেক ওপেনার জো রুট এবং ক্রিস ওকস। এই জুটিতে আসে ১০৪ রান। ইনিংসের ৩২তম ওভারে বিদায় নেন ক্রিস ওকস। গ্যাব্রিয়েলের দ্বিতীয় শিকারে সাজঘরে ফেরার আগে করেন ৪০ রান। তার ৫৪ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকানো জো রুট উইন্ডিজদের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি হাঁকান। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫১, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৭ আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ২১ রান করা জো রুট ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরির দেখা পান। ৯৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গত বিশ্বকাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে শতক পাওয়া রুট। ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ার আগে রুট ৯৪ বলে ১১টি চারের সাহায্যে করেন অপরাজিত ১০০ রান। ৬ বলে দুই চারে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন বেন স্টোকস।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরের শিরোপাধারী উইন্ডিজ আর শিরোপা জয়টা এসেছিল এই ইংলিশদের মাটিতেই। তবে সেখানেই থেমে আছে উইন্ডিজের সাফল্য কথা। আর এদিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আশায় পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে ইংল্যান্ড।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here