অজ্ঞান পার্টির প্রধান টার্গেট সাধারণ যাত্রীরা। রাস্তাঘাটে চলা ফেরা করার সময় বিপদ আপদ সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেনা কখন কার বিপদ চলে আসে। তেমনি এক আতংকের নাম অজ্ঞান পার্টি। এ পার্টির সদস্যরা সাধারণত ঈদকে মোক্ষম সময় ধরে নেমে পড়ে মাঠে।

এ পার্টির সদস্যরা এতটাই ধূর্ত যে তাদের দেখে চেনার উপায় নেই। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে এ চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। টার্গেটকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ভাব জমিয়ে যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট। যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে সর্বস্ব লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ চক্রের সঙ্গে মহিলা সদস্যও রয়েছে। অনেক সময় দুর্বৃত্তরা স্বামী-স্ত্রী সেজে যানবাহনে ওঠে। এরপর টার্গেটকৃত এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। ফলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের খপ্পরে পরছে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচার পরামর্শসমূহঃ

১. ভ্রমন পথে অযাচিতভাবে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা দিবেন না।

২. আজকাল ডাবের ভিতরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে থাকতে পারে। তাই কখন কোথা হতে তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৩. কারো হাতে রুমাল দেখলে সতর্ক থাকুন। কারণ রুমালের মধ্যে ক্লোরোফর্ম মিশিয়ে আপনার নাকের কাছে ধরলেই আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন।

৪. ফুটপাতে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

৫. ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমান কারো কাছ থেকে আচার, আমড়া, শসা, পেয়ারা প্রভৃতি খাবেন না।

৬. বাসে, ট্রেনে ভ্রমণের সময় লজেন্স বা চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি জাতিয় কোন খাবার গ্রহণ করবেন না।

৭. সিএনজিতে চলার সময় যাত্রীরা ড্রাইভারের কাছ থেকে এবং ড্রাইভাররা যাত্রীদের কাছথেকে কোন খাবার গ্রহণ করবেন না।

৮. ভ্রমণের সময় নির্জণ পথ পরিহার করে সর্বদা গাড়ি চলাচল করে এবং লোক সমাগম থাকে এমন রাস্তা বেছে নিন।

৯. ভ্রমণের সময় চেষ্টা করবেন পরিচিত কাউকে সাথে নিতে।

শুধু একটু সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে আপনার জীবন ও সম্পদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here