সঙ্গীতাঙ্গনে নিজ গুণেই পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী মরিয়ম মারিয়া। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের মধ্যে পেয়েছেন অনেকগুলো সম্মাননা ও পুরস্কার। এবার প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে থেকে পেলেন সম্মাননা। গত ২৩ জানুয়ারি কলকাতার স্বপ্নরাগ আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ত্রিগুনা সেন মঞ্চে তাকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে মরিয়ম মারিয়া বলেন, কাজের স্বীকৃতি পাওয়াটা আমার জন্য সব সময়ই গৌরবের। এবার দেশের বাইরে থেকে সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমি খুবই আনন্দিত।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে সঙ্গীতার ব্যানারে মারিয়ার প্রথম একক এ্যালবাম ‘প্রেমের পাঠশালা’ প্রকাশে পর জনপ্রিয়তা পায়। প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক প্রণব ঘোষের সুরে এ্যালবামের সব গানই ফোক সমৃদ্ধ। ২০১১ সালে জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ পায় মারিয়ার দ্বিতীয় একক এ্যালবাম ‘ডুবসাঁতারী’। এ্যালবামের সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন জে কে। গান গেয়ে মারিয়া শিল্পকলা একাডেমি থেকে নজরুল সঙ্গীতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া গানের স্বীকৃতিস্বরূপ আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বর্তমানে বিশেষ গ্রেডে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে সঙ্গীত পরিবেশন করছেন মারিয়া।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে যশোর জেলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন মরিয়ম মারিয়া। মা রিজিয়া খাতুন এবং বাবা শেখ গোলাম পাঞ্জাতনের জ্যেষ্ঠ সন্তান মারিয়ার ছেলেবেলা কাটে যশোর অঞ্চলে। দুই বছর বয়সে বাবাকে হারান মারিয়া। মা রিজিয়া খাতুন অনেক কষ্টে মানুষ করেন দুই বছরের শিশু সন্তান মারিয়াকে। মায়ের শখ ছিল মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গানের শিল্পী হবে তাই তিন বছরের শিশু সন্তন মারিয়াকে মা সেই ছোটোবেলায় ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির যশোর শাখায়।

সেখানে গান ছাড়াও মারিয়া শিখতেন নাচ এবং ছবি আঁকা। মাঝে কিছুদিন কচিকণ্ঠের আসরেও গান শিখতেন শিশু শিল্পী মারিয়া। এরপর যশোর সুর বিতান সঙ্গীত একাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত হন। নবাগত অনুষ্ঠানে গানের মাধ্যমে প্রথম টিভি র্পদায় আসেন মারিয়া।

সঙ্গীত শিক্ষার এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মারিয়া সংস্পর্শে এসেছেন আনেক গুণী সঙ্গীতজ্ঞের। গানের প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা শুরু হয় যশোর শিশু একাডেমিতে। প্রথম সঙ্গীত শিক্ষক ওস্তাদ লিয়াকত আলী খান, এর পর নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন শাহ্ মোহাম্মদ মোর্শেদ ও ওস্তাদ মোশারফ হোসেনের সান্নিধ্যে। বর্তমানে মারিয়া ওস্তাদ সঞ্জীবদের কাছে তালিম নিচ্ছেন। গানে মারিয়ার অনুপ্রেরণা মা ও তার স্বামী। সামিনা চৌধুরী, সুবীর নন্দী, আশা ভোঁসলে, মান্নাদে মারিয়ার প্রিয় শিল্পী।

রেডিও টেলিভিশনে গানের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো করছেন মারিয়া। কারণ মঞ্চসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে মারিয়ার রয়েছে প্রচুর গ্রহণযোগ্যতা। বাংলা গানের ফোক, আধুনিক, লালন, সঙ্গীতসহ বিভিন্ন ধরনের গানে সমানভাবে পারদর্শী মারিয়া।

এছাড়াও মঞ্চে দর্শক চাহিদা অনুযায়ী হিন্দী, উর্দু, ইংরেজীসহ বিভিন্ন ভাষায় গান পরিবেশন করে থাকেন তিনি। দেশে ও দেশের বাইরে যেমন, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, কানাডা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চায়না ও ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সঙ্গীত পরিবেশন করে দেশের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন সঙ্গীত শিল্পী মারিয়া। গানের পাশাপাশি একইভাবে পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন মরিয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here