সফলতার জন্য কোনবয়স বা সময় লাগে না। যে কোন বয়সে, যে কোন সময়ে সফল হওয়া যায়। আর সেটাই প্রমাণ করলেন নানজীবা খান। তিনি একাধারে ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, পরিচালক, উপস্থাপকা, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর, ইউনিসেফের তরুণ প্রতিনিধি এবং বিতার্কিক। আর এই নানামুখী প্রতিভার অধিকারী নারীর গল্প নিয়ে এই আয়োজন-

nanjiba

নানজীবা খান বর্তমানে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুলে ‘ট্রেইনি পাইলট’ হিসেবে অধ্যয়ন করছেন। এছাড়া একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ‘হ্যালো’ বিভাগের সাংবাদিক, দুটি টেলিভিশনের নিয়মিত উপস্থাপক, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের ‘মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’।

দুই বছরের গবেষণা শেষে ২০১৮ সালের বইমেলায় অন্বেষা প্রকাশন থেকে তার লেখা প্রথম বই ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’ প্রকাশিত হয়। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, ব্যবসায়ী এম এন এইচ বুলু, ইংল্যান্ডের সাবেক প্রেসমন্ত্রী রাশেদ চৌধুরী।

nanjiba

২য় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘কাগজ কেটে ছবি আঁকি’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়া জীবন শুরু করেন। বর্তমানে বিটিভিতে ‘আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি’, ‘আমাদের কথা’, ‘আনন্দ ভুবন’ ও ‘শুভ সকাল’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। এছাড়া একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘কথাবার্তা’ উপস্থাপনা করছেন।

nanjiba

১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কেয়ারলেস’ পরিচালনা করেন। জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘সাদা কালো’ পরিচালনার জন্য ইউনিসেফের ‘মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এরপর ‘গ্রো আপ’, ‘দি আনস্টিচ পেইন’সহ কিছু প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন। তার ৭ম শর্টফিল্ম ‘দি আনওয়ান্টেড টুইন’র শুটিং শেষ। এখন এডিটিং ও পোস্ট প্রোডাক্টশনের কাজ চলছে।

nanjiba

একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামরিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারতেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার।

নানজীবা বলেন, ‘আমার সবকিছুর প্রেরণা আমার ছোটভাই ও আমার মা।’ অল্প বয়সে এমন অর্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কাজ শেখার চেষ্টা করছি। সবার দোয়া থাকলে আশা করি লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। আমি চাই- আমার কাজের মাধ্যমে মানুষ বাংলাদেশকে চিনুক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here