ঢাকা | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুবিধা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ভর্তি পরীক্ষার নির্দেশিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের যেখানে পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এ ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণের হারও অন্যান্য ইউনিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষামাধ্যম, মাদরাসা, কারিগরি, ইংরেজি ভার্সনসহ সাধারণ কারিকুলামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে মোট পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা—এই চারটি বিষয় আবশ্যিক। এর বাইরে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন অথবা ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা—এই দুই বিষয়ের যেকোনো একটিতে পরীক্ষা দিতে হয়।

পাঁচটি বিষয়ে মোট ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী অংশে ইংরেজিতে ১৬ নম্বর এবং অ্যাডভান্সড ইংরেজিতে ১২ নম্বর থাকে। এর বাইরে ব্যবসায় শিক্ষাসংক্রান্ত চারটি বিষয়—বিজনেস স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিকস ও ম্যাথমেটিসের মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। অর্থাৎ সাধারণ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের যেখানে পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী অংশে ইংরেজি ও অ্যাডভান্সড ইংরেজির পাশাপাশি চারটি ব্যবসায় শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ের মধ্য থেকে মাত্র দুটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

তাদের মোট চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। লিখিত অংশেও দুই কারিকুলামের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয় ও নম্বর বণ্টনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পৃথক প্রশ্নপত্র ও নম্বর বণ্টনের কাঠামো সম্প্রতি চালু হয়নি। ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকায় এ ধরনের পৃথক প্রশ্নপত্র ও নম্বর বণ্টনের তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও এই পৃথক কাঠামো চালু ছিল।

এর মাধ্যমে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্নপত্রের এই কাঠামোর সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের হারের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও পরিসংখ্যানগত পার্থক্য দেখা যায়। ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্যান্য ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের আবেদনকারীদের তুলনায় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে এই হার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ অন্যান্য ইউনিটের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের আবেদনকারীদের উত্তীর্ণ হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ বিষয়ে গত বুধবার ঢাবি উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বহু বছর ধরে এ কাঠামোতেই প্রশ্নপত্র হয়ে আসছে। এ বিষয়ে কারোর কোনো অভিযোগ বা আপত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।’