সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির নীতিমালা অনলাইনে প্রণয়নে সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালায়ও কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। এসবের জন্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে নীতিমালা সংশোধন এবং সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন এসব সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বীকার করে নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি ১ জানুয়ারি থেকে অনলাইনেই হবে। এর কাজ শুরু হয়েছে। বদলি নিয়ে কোনো বিতর্ক আর থাকবে না।

মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাবর্ষের প্রথম তিন মাস (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) প্রাথমিকের সব শিক্ষক বদলি কার্যক্রম চলে। বছরের অন্য সময় বা মাসে বদলির কোনো সুযোগ নেই। বদলি নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা বিগত বেশ কয়েক বছর থেকেই চলে আসছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতা,পাঠদানে বিশৃঙ্খলা বা ছেদ না পড়ার জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতা চলে আসছিল। গত কয়েক বছরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে লক্ষাধিক জনকে। আগামীতে আরো সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষক স্বল্পতা আর থাকবে না। এমন যুক্তিতেই বদলি নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন বিশেষ করে বছর জুড়েই যেন বদলি করা যায় এমন বিধান রাখার যৌক্তিকতা দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বদলি নিয়ে। গত জানুয়ারি-মার্চে এ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছিল। বিশেষ করে মার্চের ৩১ তারিখে শিক্ষকরা ডিপিই ঘেরাও করে ফেলেছিল। অফিস শেষে ডিপিইর মহাপরিচালক (ডিজি) অফিস থেকে বের হতে পারেননি। পরে আবেদনকারীদের সম্মেলন কক্ষে ডেকে এনে সান্ত্বনা দিতে হয়েছিল ডিজিকে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবকে নানামুখী তদবিরে বিপাকে পড়তে হয়। রাজনৈতিক চাপ তো আছেই। নির্ধারিত তিন মাস শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব কারণে বদলি কার্যক্রম বছরজুড়ে করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ও ডিপিইতে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি বাণিজ্যে নামেন। দুই বছর আগে মন্ত্রীর দফতরের এক কর্মকর্তার (যিনি এখনো প্রতিমন্ত্রীর দফতরে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন) বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। বদলি বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here